Home / জানা অজানা / অতিরিক্ত সেলফি তোলার ফলে যাহ ক্ষতি হচ্ছে আপনার? জেনে নিন!

অতিরিক্ত সেলফি তোলার ফলে যাহ ক্ষতি হচ্ছে আপনার? জেনে নিন!

সেলফি তোলা বর্তমান সময়ের ক্রেজ। কিশোর থেকে তরূন, আড্ডায় কিংবা ফরমাল কোন পার্টিতে সেলফি তোলা চাই ই চাই। স্মার্টফোন লাগবে, সাথে ভাল ফ্রন্টক্যামেরা লাগবে। মোবাইল কোম্পানিগুলোও এখন বিজ্ঞাপন তৈরি করে সেভাবে, কোন মোবাইলে কত ভাল সেলফি তোলা যায় সেটাই থাকে উপজীব্য। সময়ের এই পাগলা হাওয়া গায়ে মেখে চলছে সবাই। কিন্তু তা কি পরিণত হচ্ছে কোন মানসিক ব্যাধিতে?

পুরুষের সামনে পোশাক খোলার সময়ে মেয়েরা যে ৫ টি কথা ভাবেন?

নার্সিজম নাকি সাইকোপ্যাথি? নাকি সেলফ-অব্জেক্টিফাইং? নাকি উভয়ই? বিশ্বজুড়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বিষয়টি। তাই তারা করছেন বিভিন্ন রকম গবেষণা।

একটি গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা সেলফ-অব্জেক্টিফিকেশনকে তিনটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা শুরু করলেন। প্রজেক্টটির নাম দিলেন “Dark Trait”। আর বৈশিষ্ট্য ৩ টি ছিল- নার্সিসিজম, সাইকোপ্যাথি এবং ম্যাকিয়াভ্যালিনিজম। “Dark” বলার কারণ হল, ৩ টি বিষয়ই নেতিবাচক, অন্যের ক্ষতি করতে পারে এবং এক প্রকারের ব্যাধি।

যেভাবে বাচ্চা নষ্ট করা হয়! লেখাটা পড়লে আপানার চোখে পানি চলে আসবে নিশ্চিত!!

নার্সিসিজম-

প্রচন্ডমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক এবং নিজের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণকারী। তারা সবসময়ই অন্য সবার চেয়ে নিজেকে বেশি যোগ্য মনে করে এবং সেটা শো-অফ করার কোন সুযোগ ছাড়ে না। তারা মনে করে, সম্মান জোর করে আদায় করে নিতে হয়।

সাইকোপ্যাথি-

নমনীয়তা এবং সহানুভূতির অভাব থাকে এই ধরণের মানুষের মধ্যে। তাদের অবস্থান থাকে এরকম যে, সবকিছুই বিনিময়যোগ্য এবং সম্পর্কে হোক বা আর্থিক লেনদেনে বিনিময় হতে হবে দ্রুত।

গায়ে কালো রং মেখে টানা ১০০ দিন রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ! কিন্তু কেন ? দেখুন রহস্যটি

ম্যাকিয়াভ্যালিনিজম- এই ধরণের মানুষেরা হয় লোভী। অন্যের কি প্রয়োজন তা নিয়ে এরা বিন্দুমাত্র চিন্তিত হয় না। ন্যায়নীতির ধারণাগুলো দ্বারাও তারা তেমন প্রভাবিত হয় না।

সেলফ-অব্জেক্টিফিকেশন-
এই টার্মটিকে ব্যাখ্যা করা একটু জটিল। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শরীরকে একটি বস্তু হিসেবে দেখে যার মূল্য যৌন মূল্যের উপর ভিত্তি করে। তারা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরতে পছন্দ করে এবং শারীরিক সৌন্দর্য্যের স্তুতি পেতে পছন্দ করে।
সেলফি এবং ব্যাক্তিত্বের সম্পর্ক নির্নয়ের উদ্দেশ্যে ফক্স এবং রুনে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১০০০ মানুষের উপর করা পরীক্ষার ডাটা ব্যবহার করেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল ডার্ক ট্রেইটস এর ভিত্তিতে। তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা দিনে কয়টি সেলফি তোলেন, কয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, একই সাথে অন্য আর কোন ছবি পোষ্ট করেছেন কিনা, সেটার সংখ্যা কত এবং সব মিলিয়ে এর পেছনে তিনি কতটা সময় ব্যয় করেন। তাদেরকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, কতবার তারা তাদের ছবিটিকে সংশোধন করেন পোষ্ট করার আগে, অর্থাৎ কি কি এডিটিং করেন এবং কতবার করেন নিজের ভাল ছবি দাঁড় করানোর জন্য।

কী হয় এখন সাদ্দাম হোসেনের সেই প্রাসাদে?জানুন বিস্তারিত

ফলাফলে দেখা গেল, নার্সিজম এবং সেলফ অবজেক্টিফিকেশন উভয়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিক সময় ব্যয় করার ক্ষেত্রে এগিয়ে। এরা প্রচুর ছবি আপলোড করে এবং ছবি এডিট করে। অন্য সাধারণ ছবি পোষ্ট করার চেয়ে সেলফি পোস্টেই এদের মনোযোগ বেশী।
ম্যাকিয়াভেলিজনিজম আক্রান্তদের ছবি তোলার এবং শেয়ার করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই।
নার্সিসিস্টরা প্রচুর সেলফি তোলে। তারা এর পেছনে অনেক সময় নষ্ট করে। কখনোই তারা আসল ছবি পোষ্ট করে না। বরং সেটিকে আরও সাজিয়ে গুছিয়ে পোষ্ট করে। একজন নার্সিসিস্টকে আপনি যদি সামনা সামনি না দেখেন তাহলে তার ছবি দেখে আপনি যাকে চিনবেন সে হতে পারে সম্পূর্ণ অন্য চেহারা। যেমন তার পছন্দ তেমন। অর্থাৎ, গায়ের রং হয়ত এডিট করে ফর্সা করে দেবে অথবা চোখ আরও বড় করে দেবে। এর পেছনে তারা অনেক সময় দেবে প্রতিদিনই।
অন্যদিকে সেলফ-অব্জেক্টিফিকেশনে আক্রান্ত মানুষেরা নিজেদের তুলে ধরার ব্যাপারে এত সচেতন নয়। তারা যেমন তেমন যাই হোক সেলফি পোষ্ট করে যায় সারাক্ষণ। এত এডিটিং করে না।
দুইক্ষেত্রেই এটি একটি ব্যাধি। এই ব্যাধি অনেক সময় নষ্ট করে। আমাদের আশেপাশে যারাই এই ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদেরই চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ফোকাস করা প্রয়োজন জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিকে।

Loading...

Check Also

নারীরা ছেলেদের কাছে কি চায় ?জেনে নিন নারীদের ১০টি প্রত্যাশার কথা।

নারীদের যেসব বিষয় পুরুষদের জানা থাকা অতীব জরুরী সে ব্যাপারে পরামর্শ দিতে গিয়ে অভিনেত্রী নীতু …

৫ মিনিটে প্রেমে সাড়া দিবে যেকোনো সুন্দরী মেয়ে,যদি এই ৫ টি কথা তাদেরকে বলতে পারেন!! ( ১০০% প্রমানিত)

মানুষকে আপন করে নেওয়ার কলা কৌশল পৃথিবীর খুব কম মানুষই জানে। এটি একটি বিশেষ দক্ষতা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *