Home / বাংলাদেশ / ৯০০ বর্গফুটের বেশি বাড়ি বা ফ্ল্যাট নয়

৯০০ বর্গফুটের বেশি বাড়ি বা ফ্ল্যাট নয়

মক্কায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫জনই বাংলাদেশি

অনেক স্থানেই আবাদযোগ্য জমিতে গড়ে উঠছে বিশাল আকারের বাগানবাড়ি। অনেক ক্ষেত্রে বাগানবাড়ি না হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়ি বা ফ্ল্যাট। এতে চাপ তৈরি হচ্ছে কৃষিজমি, তথা খাদ্যনিরাপত্তার ওপর। এটা বন্ধে তাই পরিবারপ্রতি বাড়ির আকার নির্দিষ্ট করে দেয়ার সুপারিশ করেছে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)। সুপারিশে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকেই ৯০০ বর্গফুটের বেশি আকারের বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির অনুমোদন না দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২০১৫ সালে এ সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করে আইডিইবি। এজন্য প্রাথমিকভাবে ১০টি গ্রামকে মডেল হিসেবে ধরে জরিপ চালানো হয়। জরিপে উঠে আসা তথ্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করে আইডিইবি। এসব সেমিনারে উঠে আসা খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মতামত ও জরিপের তথ্য সমন্বয় করে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।

জানতে চাইলে আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, কৃষিজমি রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকেই আমরা কাজ করছি। সেসবের ভিত্তিতেই জাতীয়ভিত্তিক এ সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। সুপারিশে সরকারের নজরদারির বাইরে গিয়ে কেউ যাতে আবাদি জমিতে স্থাপনা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাতীয়ভিত্তিক এ সুপারিশ এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব সুপারিশ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। অপরিকল্পিত আবাসন, শিল্পায়ন, ভাঙনসহ নানা কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি আবাদের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘরবাড়ি নির্মাণে আবাদি জমির ব্যবহার কমিয়ে আনতে পরিকল্পিত গ্রাম ও নগর-বিষয়ক বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের আকার নির্দিষ্ট করে দেয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সুপারিশে।
গ্রামাঞ্চলে বাড়িঘর নির্মাণ হয় অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে। এসব বাড়িঘর নির্মাণে জমির ব্যবহারও হয় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি আবাদের বাইরে চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি রক্ষায় তাই বিচ্ছিন্নভাবে বাড়িঘর নির্মাণ না করে গ্রামগুলোকে ছোট ছোট শহরে পরিণত করার সুপারিশ করেছে আইডিইবি।

সুপারিশ অনুযায়ী, সেখানে বহুতল ভবন গড়ে তুলে স্বল্প জমিতে অধিকসংখ্যক জনগোষ্ঠীর বসবাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এসব বাসিন্দা যাতে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পায়, সেজন্য সেখানে স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় উপাসনালয়, চিকিত্সাকেন্দ্র, ব্যাংক-বীমা, বিপণিবিতান, খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্রও থাকতে হবে।
ঘরবাড়ি নির্মাণে জমির ব্যবহার হ্রাসকল্পে গ্রামীণ জনপদে ‘কৃষি বা কৃষক নিবাস’ নামে বহুতল ভবন নির্মাণের সুপারিশও করেছে আইডিইবি। এ কৃষি বা কৃষক নিবাস হতে পারে সমবায় ভিত্তিতে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও গড়ে তোলা যেতে পারে এ নিবাস। তবে এ ধরনের নিবাস গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা। এজন্য আগ্রহীদের মধ্যে সরকারিভাবে ঋণ-সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেছে আইডিইবি।

এসব ঋণের সুদহার কী হবে, তারও একটা ধারণা দেয়া হয়েছে সুপারিশে। আইডিইবির সুপারিশ অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধে সক্ষম যেসব দম্পতি এক সন্তান নিয়ে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তাদের শূন্য সুদে ঋণ দেয়া যেতে পারে। আর দুইয়ের অধিক সন্তান নিয়ে যেসব দম্পতি স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তাদের ১ শতাংশ হারে সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ জনগণের জন্য গৃহ নির্মাণ উপকরণ সহজলভ্য করার কথাও বলা হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। এ সুযোগে উর্বর কৃষিজমিতেও অনেকে বাড়ি নির্মাণ করছে। কৃষিজমি রক্ষায় এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে আইডিইবি। এজন্য কিছু সুপারিশও করেছে তারা। নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশক্রমে উপজেলা হাউজিং কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত তুলে ধরেছে আইডিইবি।

খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষিজমি রক্ষার লক্ষ্যে কাঠামোগত ও আইনি কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ এখনো গ্রামে বাস করে। দেশের মোট গৃহেরও ৮০ শতাংশের বেশি গ্রামে। এমন বাস্তবতায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আদলে এখানে জাতীয় গৃহায়ণ নীতি প্রণীত হলে তা সঠিক ও যথার্থ হবে না। এ দেশের জাতীয় গৃহায়ণ নীতির বড় অংশজুড়ে গ্রামীণ গৃহ বা আবাস ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে। জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালায় গ্রামীণ গৃহায়ণ নীতি ও শহরের গৃহায়ণ নীতি নামে পৃথক দুটি অংশ রাখতে হবে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের শহরভিত্তিক কার্যক্রম সীমিত করে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার পক্ষে মত দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে স্বল্পমূল্যে পরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণের জন্য নকশা প্রণয়ন ও বিনামূল্যে তা প্রদানসহ সব ধরনের কারিগরি পরামর্শের দায়িত্ব জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে দেয়ার সুপারিশ করেছে আইডিইবি।

খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষিজমি রক্ষার জাতীয়ভিত্তিক এসব সুপারিশ এরই মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে আইডিইবি। সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশররফ হোসেন বলেন, খাদ্যচাহিদার মতো বাসস্থানও মানুষের মৌলিক চাহিদা। এ চাহিদা পূরণ করতে হলে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিজমি সুরক্ষা করতে পরিকল্পিত গ্রাম গড়ে তোলা যেতে পারে। এক্ষেত্রেও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারিবারিক জমিতে পরিকল্পিত আবাসিক ভবন নির্মাণ করে নির্মাণ ব্যয় দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে পরিশোধেরও সুযোগ দেয়া যেতে পারে। খবর বণিক বার্তা।

ব্যবসায়ী পেলেন ৭৬ হাজার টাকার ‘ছাই’

Loading...

Check Also

রাজশাহীতে নবজাতক চুরি, ফুটেজ দেখে শনাক্ত

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি তাণ্ডব রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃসদন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার …

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি তাণ্ডব

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এএসআই এরশাদ সাসপেন্ড সুন্দরবনের পাশে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *