Home / বাংলাদেশ / ব্যবসায়ী পেলেন ৭৬ হাজার টাকার ‘ছাই’

ব্যবসায়ী পেলেন ৭৬ হাজার টাকার ‘ছাই’

‘ঢাকার হাতিরঝিলে লন্ডন ও সিঙ্গাপুরের মতো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে’

রাজধানী গুলশান-১ এর ডিসিসি বাজারে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরোপুরি পুড়ে গেছে ২৫০টি দোকান। সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা নির্বিকার তাকিয়ে সরকারের দিকে। এর মধ্যে হান্নান নামে এক ব্যবসায়ী তার পুড়ে যাওয়া দোকানের ক্যাশ হতে পেয়েছেন ৭৬ হাজার টাকা। যার পুরোটাই ছিল পুড়ে যাওয়া ‘ছাই’ মাত্র। তবে টাকাগুলোর নম্বর বুঝা যাচ্ছিল।

হান্নান জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবেন বলে টাকাগুলো দোকানে রাখেন। কারণ, বাসা হতে দোকানকে তিনি বেশি নিরাপদ মনে করেছিলেন। তিনি পুরাতন মালামাল ক্রয় করে বিক্রি করেন। ৩০ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডিসিসির মার্কেটে আগুন লাগে। আগুন লাগার ২০ মিনিটের মধ্যে কাঁচা মার্কেটটি ধসে পড়ে। পরে আগুন পাকা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ ঘণ্টা পর ০৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ।

সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আহাজারি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, মার্কেট হতে উচ্ছেদ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মার্কেটে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যেত। বেশিরভাগ বিদেশি দামি ও উন্নত মানের মালামাল বিক্রি হতো বলেও জানান তারা।

ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী জহুরুল মঙ্গলবার বলেছিলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ঠিক মতো কাজ করছে না। তারা বলছেন তাদের ১৯টি ইউনিট কাজ করছে; কিন্তু আপনারা দেখেন মাত্র ৫টির মতো ইউনিট রয়েছে। তারা সবাই কাজ করলে গুলশান ভেসে যেত। মার্কেটের গেট হলো ১৬টা তাহলে কেন তারা আধা ঘন্টার মধ্যে কিছু করতে পারলো না। এর আগেও এই মার্কেটে ১০বার আগুন লেগেছিল।’

আরেক ব্যবসায়ী রাসেল ঘটনার দিন কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ। এখন আমি নিঃস্ব।’

সিরাজুল (জেনি এন্টার প্রাইজ) বলছিলেন, ‘পরিকল্পিত না হলে কিভাবে আগুন লাগার ৩০ মিনিটের মধ্যে ভবন ধ্বসে যায়। আমার ১০ কোটি টাকার মালামাল ছিল; তা শেষ ‘

ক্ষুতিগ্রস্থ ইউসুফ জানিয়েছিলেন, ‘আমার ৫টা দোকান ছিল। গতকালও ২০ লাক্ষ টাকার মালামাল এনেছি। আমার ১০ কোটি টাকা শেষ। এখন আমি কি করবো? কি খাবো? অনেক ব্যবসায়ীর কাছ হতে বাকিতে মালামাল এনেছি; এখন তা কিভাবে শোধ করবো।’

ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের আইজি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালাচ্ছি। দোকানে ধায্য পদার্থ জাতীয় মালামাল থাকায় আগুন ছড়িয়ে পরেছে। ফায়ার সার্ভিস তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

একইদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে জাতীয় মানবাধীকার কমিশনার বলছিলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি করতে সরকারের প্রতি আমার আহ্বান। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড হলে এর আলোকে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। আগুন লাগলে দেখা যায় বেশির ভাগই বস্তির লোক, সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়িরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন।’

‘দলীয় কোন্দলের জেরে খুন হয়েছে এমপি লিটন’!

Check Also

রাজশাহীতে নবজাতক চুরি, ফুটেজ দেখে শনাক্ত

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি তাণ্ডব রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃসদন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার …

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি তাণ্ডব

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এএসআই এরশাদ সাসপেন্ড সুন্দরবনের পাশে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *