Home / মা ও শিশুর যত্ন / ছোট্ট শিশুর হেঁচকি, কী করবেন?

ছোট্ট শিশুর হেঁচকি, কী করবেন?

নারীদের বয়স ত্রিশ এর বেশি হলে সন্তান নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন?

হিক্কা বা হেঁচকি কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা না হলেও এটি যথেষ্ট বিরক্তিকর। এই হিক্কা সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে যেকোনো কারণেই হোক, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদার সংকোচন ঘটে এবং স্বররজ্জু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে হিক শব্দের সৃষ্টি হয়। এটি সাধারণত বদহজম, খুব তাড়াতাড়ি কিছু খেলে বা পান করলে, খালি পেটে হাসলে এবং ক্লান্ত হয়ে গেলে ইত্যাদি কারণে হতে পারে।

এ ছাড়া আরো অনেক কারণ আছে। তবে হিক্কার সঠিক কারণ সম্বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এতে এর প্রশমনের উপায় সম্বন্ধেও বৈজ্ঞানিকভাবে রয়েছে মতপার্থক্য। একেকজন একেক পদ্ধতির কথা বলেন। তার এর মধ্যে অনেকগুলো কাজেও আসে। সে রকম কিছু পদ্ধতির কথা এখানে উল্লেখ করা হলো :

শিশুর পিঠ চাপড়ে দিন

ছোট্ট শিশুর হিক্কা শুরু হলে তাকে কাঁধের ওপর খাড়া করে নিয়ে পিঠ আস্তে আস্তে চাপড়ে দিতে হবে। শিশুরা দুধ খাওয়ার সময়, বিশেষ করে বোতলের দুধ খাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রচুর বাতাস গিলে ফেলে। এতে তাদের পাকস্থলী বাতাসে ফুলে যায়। এতে হিক্কা শুরু হয়। এ সময় শিশুকে খাড়া করে ধীরে ধীরে পিঠ চাপড়ালে বাতাস ওপরে উঠে আসে এবং হিক্কা থেমে যায়।

প্রেগনেন্সি পরবর্তী ১১ টি সত্য যা কেউ আপনাকে বলেনি

ফিডারের নিপল ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে

ফিডারের নিপলের ছিদ্র যদি বেশি বড় বা ছোট হয়, তাহলেও শিশু বেশি বাতাস গিলে ফেলে হেঁচকির শিকার হয়। নিপলের ছিদ্র এমন হওয়া উচিত যেন বোতল উপুড় করে ধরলে ফোঁটা ফোঁটা করে দুধ পড়তে পড়তে ধীরে ধীরে পড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি তার বদলে বোতল থেকে একনাগাড়ে দুধ পড়তে থাকে অথবা একেবারেই না পড়ে, তাহলেই সমস্যা। এ জন্য বোতল ও নিপল বদলে দেখা যেতে পারে কোনটি শিশুর প্রযোজ্য।

দেরি না করে ঠিক সময়মতো শিশুকে খাওয়ান

শিশুর খাওয়ানোর সময় হিক্কা উঠলে খাওয়ানো বন্ধ করা ঠিক নয়। হিক্কা শিশুর খাওয়াতে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে না। উপরন্তু খেয়ে পেট ভরলে হিক্কা বরং বন্ধ হয়ে যায়।

শিশুকে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়ানো ঠিক নয়

শিশুর জন্মের প্রথম কয়েক মাস যদি দেখা যায়, প্রতিবার খাওয়ানোর পরপরই শিশুর হিক্কা ওঠে, তাহলে বোঝা যাবে অতিরিক্ত খাওয়ানোই শিশুর হিক্কার কারণ। তাই এ অবস্থায় শিশুকে একেবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো ভালো।

আর যদি মায়ের সন্দেহ হয় যে সত্যিই তিনি শিশুকে বেশি খাইয়ে ফেলেছেন, তাহলে শিশুকে নিজের তৈরি রুটিনমতো না খাইয়ে, শিশু যখন খাবার জন্য কান্না করবে, কেবল তখনই শিশুকে খেতে দেওয়া উচিত। শিশু যখন আর খেতে চাইবে না, তখন জোর না করে খাওয়ানো বন্ধ করে দিতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ।

সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়ার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *